বোয়ালখালীতে হাত-চোখ বেঁধে তিন পরিবারে ডাকাতি
বোয়ালখালী প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে অস্ত্রের মুখে তিন পরিবারের সদস্যদের হাত-চোখ বেঁধে জিম্মি করে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় স্বর্ণালংকার, রুপার নুপুর, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুস সত্তারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ৬ থেকে ৭ জনের একটি সশস্ত্র দল ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে বাড়ির তিন পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে হাত-চোখ বেঁধে মারধর করে তারা।
ডাকাতির সময় দুটি স্বর্ণের চেইন, দুই জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, একটি স্বর্ণের নাকফুল, এক জোড়া ডায়মন্ডের কানের দুল, ছয় ভরি ওজনের দুই জোড়া রুপার নুপুর, পাঁচটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, নগদ ৪১ হাজার টাকা এবং একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা লুট করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
আমুচিয়া শাহ মজিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষিকা সাদিয়া আফরোজ জানান, রাত ৩টার দিকে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে তার স্বামী শরিফুল ইসলামসহ পাঁচজনের হাত-চোখ বেঁধে মারধর করে। পরে তার নাকফুল, ডায়মন্ডের কানের দুল, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে যায়।
অটোরিকশাচালক নুরুল আবছার রুবেল বলেন, প্রথমে রান্নাঘরের জানালার গ্রিল কেটে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে। এরপর ১২ বছরের এক শিশুকে জিম্মি করে পেছনের দরজা খুলতে বাধ্য করে। ঘরে ঢুকে তার গলায় ধারালো ছুরি ধরে হাত বেঁধে ফেলে এবং ঘর তছনছ করে ২৫ হাজার টাকা ও তার আয়ের একমাত্র সম্বল ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি নিয়ে যায়।
একই বাড়িতে ভাড়া থাকা রাবার বাগানের শ্রমিক জিয়াউর রহমানের স্ত্রী ঝর্ণা আকতার বলেন, ডাকাতরা তার এক বছরের শিশুসন্তানকে কোলে তুলে নিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। পরে কান্নাকাটি ও হাতজোড় করে অনুরোধ করলে তারা শিশুটিকে ছেড়ে দেয়।
জানা গেছে, ডাকাতির শিকার তিন পরিবারই আব্দুস সত্তারের ভবনে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া থাকতেন।
খবর পেয়ে বোয়ালখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, উত্তর কড়লডেঙ্গায় একটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এটি নিছক চুরি নাকি পরিকল্পিত ডাকাতি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে ওসি জানান, জানালার গ্রিল কেটে একটি শিশুকে ভেতরে ঢুকিয়ে দরজা খোলানো হয়েছিল। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।